না.গঞ্জ পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষনের পরও সিদ্ধিরগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডে প্রভাবশালীর মদদে হান্নান-মান্নানের মাদক ব্যবসা থেমে নেই

Uncategorized অর্থনীতি আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ

স্টাফ রিপোটার্র:
ভালো মানুষের ছদ্ধ বেশে সিদ্ধিরগঞ্জ সুমিলপাড়া এলাকার হাজেরা হান্নানের মাদকের বিশাল সিন্ডিকেটের সংবাদ তদন্ত সহকারে বেশ কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে সুষ্টু
তদন্তের জন্য সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। কিন্তু গত ২দিন অতিবাহিত হবার পরও
জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে মাদক কারবারী হান্নান ও তার ছোট ভাই মাদক মামলার আসামী মান্নানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। করা
হয়নি কোন ধরনের তদন্ত। গ্রেফতার করা হয়নি মাদক মামলার আসামী হান্নানের ছোট ভাই মান্নানকে। এদিকে সংবাদ প্রকাশের পরও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে
প্রশাসন থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হান্নান প্রধান ও তার ভাই মান্নান প্রধান। তাদের রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে চিহ্নিত ও দাগী মাদকের
আসামীরা রয়েছে। তারা আবারো শুরু করেছে মাদক কারবারী বলে এলাকার মানুষ ক্ষোভের সাথে জানান।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান এখন বন্ধ কেন? প্রভাবশালীর ছত্রছায়া নিলে, আর সাংবাদিকের কার্ড পেলেই কি মাদক
ব্যবসা করা যায়। হান্নানের ভাই মান্নান ওরফে মান্না মাদক মামলার আসামী হবার পরও পুলিশ কেন মান্নাকে গ্রেফতার করছেনা। অভিযোগ উঠেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের
সবগুলো ওয়ার্ডের মধ্যে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড এখন মাদকের সবচেয়ে আস্তানা। আগে শুধু বিহারী কলোনীতেই মাদক ব্যবসা হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আর এখন ৬নং ওয়ার্ডের কোন জায়গা বাকী নাই যেখানে মাদক পাওয়া যায়না। হাত বাড়ালেই মিলছে
মাদক। ভালো মানুষের আড়ালে, সাংবাদিক পরিচয়ে চালাচ্ছে মাদকের কারবার। অথচ এখনোই রয়েছে র‍্যাবের কাযার্লয়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাসহ প্রশাসনের বড় বড় কাযার্লয়। এরফলে পুলিশের প্রতি সাধারন মানুষ আস্তা
হারাচ্ছে। ডজনখানী মামলার আসামী হয়েও যখন পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকতে পারে, প্রভাবশালীদের সেল্টার পেতে পারে, তাহলে তো হান্নান ও মান্নানের
মতো মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠবেই। এখনই উচিত এই সকল মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর
পদক্ষেপ গ্রহন করা। অন্যথায় এলাকার কিশোরগ্যাং তৈরী হবে, যুব সমাজ বিপথগামী হবে। তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও র‍্যাবের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সাধারন
মানুষ।

গত রবিবার (১৫ মে) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নং ওয়ার্ডের
সুমিলপাড়া বিহারী কলোনি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পানির ট্যাংক সংলগ্ন ছাপড়া টিনের ঘরের ভিতর থেকে মৃতঃ আবুল কাশেমের ছেলে নাজিম
উদ্দিন (২৪)কে পুলিশ গ্রেফতার করে। এবিষয়ে মাদক দ্রব্য আইনে থানায় একটি মামলা হয়েছে । মামলায় হান্নানের ভাই মান্নাকে ৪নং আসামী করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযান টের পেয়ে মান্নান তার দলবল নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী
ইপিজেডে চাঁদা দাবি ও সুপারভাইজারকে মারধরের করনে হান্নান প্রধানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আদমজীনগর টপিক ৭ এর এনএস কনস্ট্রাকশন এর গোল্ডেন কনস্ট্রাকশন এর সুপারভাইজার শাহপরান (৩২)। গত বছর ১০ জানুয়ারী
হান্নান প্রধানের চোরাই তেলের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার লিটার চোরাই ফার্নিশ তেল উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১। এসময় হান্নানের সহযোগী চোরাই তেল চোর চক্রের সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে
একজনকে আটক ও একটি তেলের ট্যাংকলরী জব্দ করেছে। অভিযান টেন পেয়ে হান্নান সুকৌশলে পালিয়ে যায়।
(১১ জানুয়ারী) দুপুরে র‍্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে সিপিএসসি’র কোম্পানী কমান্ডার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিন চৌধুরী, পিপিএম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই চোরাই তেলের আস্তানার মালিক হান্নান প্রধানের বিরুদ্ধে ইতোঃপূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা হয়। যা চলমান রয়েছে। পলাতক হান্নান প্রধান ও আটক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে
আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, যেসব মামলায় আঃ হান্নান ওরফে হান্নান প্রধান আসামী সেগুলো হল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এফআইআর নং-
৩৩ (২০/১০/২০১৪), এফআইআর নং-১২ (১২/৩/২০১৩),
এফআইআর নং-২৯ (১৫/৯/২০০৬), এফআইআর নং-৩৫
(৩৩/৪/২০১৬), এফআইআর নং-১৪ (১১/৫/২০১৩),
এফআইআর নং-১৫ (১১/৫/২০১৩), এফআইআর নং-৩২
(২৯/৫/২০০৯), এফআইআর নং-৯ (০৬/১/২০২০),
এফআইআর নং-৭ (১৮/৫/২০২০), এফআইআর নং-৪২
(২০/৩/২০২০), এফআইআর নং-৩ (৩/৮/২০২০)। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *