যুবসংহতি থেকে স্বেচ্ছাসেবকলীগে অনুপ্রবেশকারী কাজী ওয়াসিমসহ বহিস্কৃতদের আগামী কমিটিতে স্থান না দিতে সিনিয়দের প্রতি তৃনমুলের অনুরোধ

Uncategorized অর্থনীতি প্রচ্ছদ

কাজী ওয়াসিম স্বেচ্ছাসেবকলীগ না.গঞ্জ মহানগর কমিটিতে একজন অনুপ্রবেশকারী। তার আসল পরিচয় সে জাতীয় পার্টির অঙ্গ-সংগঠন যুব সংহতি নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি। তার বড় ভাই কাজী মহসীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি। সেই সুবাদে বড় ভাই কাজী মহসীনের হাত ধরে যুব সংহতি নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি পদ পায় ওয়াসিম। এদিকে নারায়নগঞ্জ জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি গঠনের সময় মহানগরের দায়িত্ব পায় জাতীয় পার্টি ঘেষা সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল। যার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। দুলাল মহানগরের দায়িত্ব পেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসীনের অনুরোধে যুব সংহতি নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি থেকে সরাসরি মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে স্থান করে নেয় কাজী ওয়াসিম। যার মধ্যে আ.লীগের কোন সম্পর্ক ছিলো না, যার শরীরে জাতীয় পার্টির গন্ধ সেই কাজী ওয়াসিম স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় আ.লীগ নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হলেও তারা মুখ খুলেনি। মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে কাজী ওয়াসিম স্থান করে নিলেও তাদের অন্তরে জাতীয় পার্টির মহাব্বত ছিলো। যেমনটি ছিলো জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে। আর সেই মহাব্বতের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে এবারের নাসিক নিবার্চনে। এবার নাসিক নিবার্চনে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কতিপয় নেতাদের ভুমিকা ছিলো নৌকার বিরুদ্ধে। তারা নৌকার পক্ষে নামলেও ভিতরে ভিতরে হাতির পক্ষে নিবার্চন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার প্রমান কেন্দ্র পেয়েছিলো। নিবার্চনের ২দিন আগে জাতীয় পার্টি থেকে নিবার্চত ৪জন চেয়ারম্যান তৈমূরের সাথে নিবার্চনী প্রচারনা করায় তা পরিস্কার হয়ে যায়। যা না.গঞ্জের মানুষ দেখেছে। সেই দিক দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসীনও ভিতরে ভিতরে নৌকার বিরুদ্ধে নিবার্চন করেছে বলে আ.লীগ নেতাদের অভিযোগ। তারা কাজী মহসীনকে নৌকার পক্ষে কোন প্রচারনায় পায়নি। এদিকে বড় ভাই নৌকার পক্ষে নিবার্চন করছেনা, অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতারাও নৌকার পক্ষে প্রচারনা করলেও গোপনে গোপনে হাতির পক্ষে নিবার্চন করায় যুবসংহতি থেকে স্বেচ্ছাসেবকলীগে যাওয়া কাজী ওয়াসীমও তাদের পথ অনুসরন করে নৌকার পক্ষে প্রচারনা করে গোপনে গোপনে হাতির পক্ষে অবলম্বন করেছে বলে স্থানীয় আ.লীগ নেতারা অভিযোগ করেছে। আর এই ধরনের অভিযোগ সত্যতা পেয়ে গত ১৬ জানুয়ারী বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং এর অন্তর্গত থানা ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। গত রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশক্রমে রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং এর অন্তর্গত সদর থানা, ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা, রূপগঞ্জ থানা, সোনারগঁা থানা কমিটি ও মহানগরের অন্তর্গত ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। নিবার্চনের দিন বিকালে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার প্রধান কারণ ছিলো, শেখ হাসিনার প্রাথর্ী নৌকার প্রাথর্ী ডা. আইভীকে নাসিক নিবার্চনে সহায়তা না করে স্বতন্ত্র প্রাথর্ী তৈমুরের হাতির পক্ষে গোপনীয়ভাবে কাজ করা। জেলা ও মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করার ফলে যুবসংহতি থেকে আওয়ামীলীগ স্বেচ্ছাসেবকরীগে অনুপ্রবেশকারী কাজী ওয়াসিমও বিলপ্তি হওয়ায় স্থানীয় আ.লীগ নেতারা কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক। কারন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কতিপয় নেতারা সত্যিই নৌকার পক্ষে কাজ না করে কাজ করেছে হাতির পক্ষে। এই ধরনের বিশ্বাসঘাতক অনুপ্রবেশকারী দলের শত্রু। তারা দলে প্রবেশ করে সুবিধা নেয়ার জন্য। আ.লীগের ত্যাগী নির্যাতিত নেতাকমর্ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কেন্দ্রের উচিত যাচাই-বাছাই করে আগামীতে কমিটির অনুমোদন দেয়া। আগামী কমিটিতে যেনো কাজী ওয়াসীমের মতো অনুপ্রবেশকারী, জাতীয় পার্টি ঘেষা কোন লোককে আর স্বেচ্ছাসেবকলীগের মতো কমিটিতে স্থান না দেয়া হয়। তাহলে আর কেহ নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পাবেনা। এব্যাপারে স্থানীয় নেতারা সিনিয়র নেতাদের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *