গভীর রাতে রাস্তার পাশে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন কালে “আজকের গল্পটা তামীমের মুখের প্রসারিত হাসির” ইউএনও শুল্কা সরকার

Uncategorized অর্থনীতি আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ সোনার বাংলা

এন এম সুজন :-
নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার উপজেলা নির্বাহি অফিসার শুল্কা সরকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর হতেই উপজেলার প্রতিটি মানুষকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই মনে করেন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা মুছে দিতে সর্বদাই সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও করোনা কালে জনগণের পাশে থাকা জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সেবা কেরে নিজেও করুনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যা বন্দর বাসীর কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সম্প্রীতি রাতের আধারে গরীব অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে ইউএনও শুল্কা সরকার ও সহকারী ভূমি কমিশনার আসমা সুলতানা নাসরিন কে সাথে নিয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ উদ্দেশে বের হন।
এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বন্দর এর ফেসবুক পেজ থেকে স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
আমি আর এসি ল্যান্ড বেড়িয়েছিলাম।উদ্দেশ্য ছিল গভীর রাতে রাস্তার পাশে শীতার্ত মানুষকে কিছুটা স্বস্তি(কম্বল) দেয়া । পেয়ে গেলাম তামীমকে! (শেষ ছবি) ওর বাড়ি এই এলাকায় না। বাদাম বিক্রি করতে করতে কোন এক বাসে উঠে এখানে চলে এসেছে।এত রাতেও সে বাসায় ফিরতে পারছে না কারন তাকে কোন বাস উঠিয়ে নিচ্ছে না। তারা দুভাই । মা বাবা কেউ নেই । তার ভাষ্য অনুযায়ী সে পড়াশুনা করতো কিন্তু এখন করে না কারন করোনায় স্কুল বন্ধ ,তাছাড়া তার নাকি পড়তেও ভাল লাগে না । তার ইচ্ছা তার তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ভাই যার নাম রাহীম তাকেই সে লেখাপড়া করাবে ,তাকে সে কাজ করতে দিবে না । তারা থাকে তাদের নানীর কাছে। নানী বাসা বাড়িতে কাজ করে । তার বাসা ঠিক কোন জায়গায় সে বলতে পারে না । মোবাইল নম্বরও নেই । তবে উপজেলার নাম বলতে পারে এবং বাসে উঠলে ঠিক জায়গায় নামতে পারবে । জিজ্ঞেস করলাম আজ কত টাকা বিক্রি হয়েছে । বলে ৫৭০ টাকা , ৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে। বাকিটা তার । দশ প্যাকেট বাদামের দাম কত বাবা ? বলে ১০০ টাকা । দশ প্যাকেট বাদাম কেনা হল । এরমধ্যে এক প্যাকেট সে টানতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে । ওটার দাম নিতে চাচ্ছিল না । এতটুকুন ছেলে তার নীতি কি স্বচ্ছ ! বললাম বাবা তোমাকে যদি কম্বল দেই নিবা ? সে বলে দেন নানী খুশি হইবো । দিলাম তিনটা , সে বলে কি মজা ! একটা আমার ,একটা ভাইয়ের ,একটা নানীর ! আমার ড্রাইভার সাহেব কম্বল তিনটা বেঁধে তাকে একটা ট্রাকে তুলে দিলেন। ট্রাক ড্রাইভারের নম্বর নেয়া হয়েছিল । একটু আগে হেলপার সাহেব ফোন দিয়ে ছেলেটার সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছে আমার ড্রাইভার সাহেবের সাথে । ট্রাক ড্রাইভারের প্রতি কৃতজ্ঞ তাকে তার বাসার কাছে নামিয়ে দিয়েছে ।

এক একটা রাত এক একটা গল্প তৈরি করে । আজকের রাতটা তামীমের । আজকের গল্পটা তামীমের মুখের প্রসারিত হাসির !
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=245720923736619&id=100048961383038c

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *